৪ জুলাই ২০২৬
preview
'প্রিয় সহযোদ্ধা, ফিরে আসুন; আবার সরব হোন, সংগঠনে আপনাকে প্রয়োজন'

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—প্রতিটি রাজনৈতিক সংগ্রামের পথ কখনোই সহজ ছিল না। প্রতিটি আন্দোলন, প্রতিটি আদর্শ এবং প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি দুঃসময় আসে। সেই দুঃসময়েই কেউ সম্মুখসারিতে থেকে সংগ্রাম করেন, কেউ নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হন, আবার কেউ নিজের জীবন, জীবিকা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে নীরব থাকতে বাধ্য হন। কিন্তু একটি আদর্শিক সংগঠন কখনো একজন সহযোদ্ধার মূল্যায়ন শুধু তার দৃশ্যমান উপস্থিতি দিয়ে করে না; তার বিশ্বাস, অতীতের অবদান, ত্যাগ এবং আবার উঠে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


পাঁচ আগস্ট-পরবর্তী সময়টি শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায় ছিল না; এটি ছিল বহু সহযোদ্ধার জন্য ভয়, অনিশ্চয়তা, জীবিকা রক্ষার সংগ্রাম এবং পরিবারকে নিরাপদ রাখার এক কঠিন পরীক্ষা।


চারদিকে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, গ্রেপ্তার ও হয়রানির আশঙ্কা, জীবিকা হারানোর ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অনেকেই অনলাইনে নীরব ছিলেন, রাজপথে সরব হতে পারেননি কিংবা প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। অনেকে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন। তাই কারও নীরবতাকে তার আদর্শের দুর্বলতা হিসেবে দেখার আগে তার বাস্তবতা, তার সংগ্রাম এবং তার নীরবতার কারণ বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। অনেক সময় নীরবতা আদর্শের পরাজয় নয়; বরং কঠিন সময় অতিক্রম করে আবার দৃঢ়ভাবে ফিরে আসার প্রস্তুতি।

আজ সেই প্রস্তুতিকে শক্তিতে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।


জননেত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন বক্তব্যে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই আহ্বান বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার। একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত অভিজ্ঞ, নিবেদিত, আদর্শনিষ্ঠ এবং পরীক্ষিত সহযোদ্ধাদের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য।


ইতোমধ্যেই সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলছে। গত ২৯ জুন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের উদ্যোগে আয়োজিত "জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা: আওয়ামী লীগের অর্জন ও সাফল্য" শীর্ষক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ৫ শতাধিক নারী সহযোদ্ধার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে—প্রতিকূল সময় আদর্শকে থামিয়ে রাখতে পারে না। সুযোগ সৃষ্টি হলে কর্মীরা আবারও সংগঠনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে প্রস্তুত।


এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব—যারা এতদিন নীরব ছিলেন, তাদের আবার আপন করে নেওয়া। নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠনের সময় তাদের মূল্যায়ন করা। তাদের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। কারণ সবাই একইভাবে কাজ করবেন না, সবার সামর্থ্যও এক নয়। কিন্তু প্রত্যেকেই নিজের অবস্থান থেকে সংগঠনের শক্তি হয়ে উঠতে পারেন।


আমরা যারা আজ সক্রিয় আছি, তাদের প্রতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। কাউকে তার নীরবতার জন্য বিচার নয়, বরং তার পাশে দাঁড়ান। একটি ফোন করুন। তাঁর খোঁজ নিন। একটি আন্তরিক বার্তা পাঠান। তাকে বলুন—"প্রিয় সহযোদ্ধা, ফিরে আসুন। সংগঠনে আপনাকে প্রয়োজন। আপনার স্থান এখনও আপনারই আছে।" তাকে অনুভব করান—তিনি একা নন, তিনি এখনও আমাদেরই একজন। হয়তো আপনার এই ছোট্ট উদ্যোগই একজন নীরব সহযোদ্ধার মনে নতুন সাহস, নতুন আত্মবিশ্বাস এবং নতুন প্রত্যয়ের জন্ম দেবে। কারণ ইতিহাসের প্রতিটি পুনর্জাগরণ শুরু হয়েছে মানুষকে পাশে নেওয়ার মধ্য দিয়ে।


মনে রাখবেন, একটি শক্তিশালী সংগঠন কখনো কাউকে বাদ দিয়ে গড়ে ওঠে না। বরং যে সংগঠন দুঃসময়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সহযোদ্ধাদের সম্মান 

দিয়ে আবার বুকে টেনে নিতে পারে, সেই সংগঠনই ভবিষ্যতের ভিত্তি নির্মাণ করে।


এবার সেই ব্যক্তিগত উদ্যোগকে আমাদের সম্মিলিত শক্তিতে রূপ দেওয়ার সময়। নতুনদের স্বাগত জানাই, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সহযোদ্ধাদের আবার বুকে টেনে নিই এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলি। কারণ আগামী দিনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে আমাদের ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ।

তাই আবারও বলি—

প্রিয় সহযোদ্ধা, ফিরে আসুন।

 সংগঠনে আপনাকে প্রয়োজন।

আপনার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

আপনার ত্যাগ প্রয়োজন।

আপনার সাহস প্রয়োজন।

আপনার শ্রম প্রয়োজন।

আপনার নিষ্ঠা প্রয়োজন।

আপনার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

কারণ আমরা বিশ্বাস করি—একটি শক্তিশালী 

সংগঠন গড়ে ওঠে কাউকে বাদ দিয়ে নয়; বরং গড়ে ওঠে প্রত্যেক সহযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়েই।


ঐক্যবদ্ধ, সুসংগঠিত এবং আত্মবিশ্বাসী কর্মীবাহিনীই একটি আদর্শিক সংগঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করি, আমাদের ওপর অর্পিত সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ হই এবং সমস্বরে উচ্চারণ করি—

ফিরে এসো আলোকবর্তিকা।

তোমার ফেরার প্রতীক্ষায়—

আমরা প্রস্তুত, প্রস্তুত বাংলাদেশ।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এনামুল হক আরমান

ফোন : +8801609378100, ই-মেইল: kolom24news@gmail.com