৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
preview
সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে স্বামীসহ গ্রেফতার

মো. নূর নবী শেখ

নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বর্ণালংকার, রূপা ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক স্ত্রী ও তার বর্তমান স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন, নব কুমার বর্মন (২৮): মহাদেবপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের জিতেন বর্মনের ছেলে এবং বর্তমান স্বামী। সুবর্ণা রানী সরকার (৩০): পত্নীতলা উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ মণ্ডলের মেয়ে, বিরশ চন্দ্র সরকারের সাবেক স্ত্রী এবং মামলার প্রধান অভিযুক্ত।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহাদেবপুর থানার শ্যামপুর গ্রামের নব কুমার বর্মনের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণা বিরশ চন্দ্র সরকারের স্ত্রী ছিলেন এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। সংসার জীবনে থাকাকালীন সুবর্ণার সঙ্গে নব কুমার বর্মনের গোপন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টার দিকে নব কুমার বর্মন ও সুবর্ণা রানী সরকারসহ অন্যান্য আসামিরা বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় নব কুমার বর্মন বাদীর অসুস্থ ছেলে বাঁধন কুমারের গলায় চাকু ধরে রাখেন এবং অন্য আসামিরা বাদীর মেয়ে পুঁজা সরকার ও পুত্রবধূ ঐশ্বরীয়া সরকারকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

এ সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বন্ধক নেওয়া প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণ মূল্য আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা। সুবর্ণাকে দেওয়া প্রায় সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার মূল্য আনুমানিক ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রায় ৭ ভরি রূপা মূল্য আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা। নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। মোট চুরি যাওয়া মালামাল ও নগদ টাকার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

ঘটনার পর বাদী ও সাক্ষীরা সুবর্ণার খোঁজ নিতে গেলে অন্যান্য আসামিরা জানান যে, সুবর্ণার পরামর্শে তিনি নব কুমার বর্মনের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন। এ সময় চুরি যাওয়া মালামাল ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘটনার আগে সুবর্ণা রানী সরকার বাদীর বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। গত ৬ আগস্ট নওগাঁ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তিনি স্বামী বিরশ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করেন এবং ১৩ আগস্ট নব কুমার বর্মণকে বিয়ে করেন।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার দুই আসামির এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার, রূপা ও নগদ টাকা উদ্ধারের অভিযান চলছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নওগাঁ জেলা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক রাজেশ কুমার চক্রবর্তী আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, মামলাটি সংবেদনশীল হওয়ায় আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলহাজতে আটকে রাখার আবেদন করা হয়েছে।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com