২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
preview
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বখাটের চড়–লাথিতে দাঁত ভেঙে গেল ৫ম শ্রেণির ছাত্রীর

মো. নূর নবী শেখ

বরগুনার বেতাগীতে প্রাথমিকে পড়ুয়া এক শিক্ষা‍র্থী প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্থানীয় এক বখাটে যুবকের মারধরের শিকার হয়ে তিনটি দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফয়সাল মৃধাসহ সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী শিক্ষা‍র্থীর মা বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ জানালে মঙ্গলবার রাতে বেতাগী থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে সম্পৃক্ত তিনজনকে আসামী করে মামলা এজাহারভুক্ত করেন।

অভিযুক্ত ফয়সাল উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদউদ্দিন মৃধার ছেলে ঘটনার পর থেকে এলাকা থেকে লাপাত্তা অভিযুক্ত ফয়সাল, পুলিশ তার মা মোসা. শিরিন ও ভাইকে গ্রেফতার করেছে। তারা দুজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এবং মামলার প্রধান আসামি ফয়সালকে গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছেন পুলিশ, এমনটাই জানিয়েছেন বেতাগী থানার ওসি।

এদিকে প্রধান আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে স‍‍র্বচ্চো শাস্তি নিশ্চিতের দাবি আহত ওই শিক্ষা‍র্থীর পরিবারসহ এলাকাবাসীর।

ওই শিক্ষা‍র্থী উপজেলার ‘গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ব‍‍র্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ক‍‍র্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, জোরালো আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই ওই শিশু শিক্ষা‍র্থীর তিনটি দাঁত উপড়ে যায় এবং আরও দুটি দাঁত ভেঙে মুখের অ্যানাটমি অংশের বেশ ক্ষতি হয়েছে। সম্প‍ূ‍র্ণ সুস্থ হতে উন্নত ডেন্টাল সা‍র্জারিসহ বেশ লম্বা সময়ের চিকিৎসা লাগবে বলেও জানান ওই শিক্ষা‍র্থীর ক‍‍র্তব্যরত চিকিৎসক সহকারী সার্জন চিকিৎসক মেহেদী হাসান।

আহত ওই শিক্ষা‍র্থীর পরিবার জানান, প্রায় সময়েই স্কুলে যাওয়া-আসার পথে স্থানীয় বখাটে ফয়সাল মৃধা প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন ওই শিক্ষা‍র্থীকে।

আহত শিক্ষা‍র্থীর মা যুগান্তরকে বলেন, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বসতঘরের বাহিরে টয়লেটে গেলে দরজার ফাঁকা অংশ থেকে তার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন বখাটে ফয়সাল। এ সময় চিৎকার করলে বাড়ির লোকসহ আমরা (পরিবারের সদস্যরা) সবাই ঝাঁপিয়ে পরলে দৌঁড়ে পালায় ফয়সাল। তবে রাতে নিজবাড়িতে এমন ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা ভেবে আমি (শিক্ষার্থীর মা) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসাও করেন, তবে ফয়সাল থানা পুলিশে জানিয়েছি বলে সবার মধ্যে হুমকি দেয় তাই আমরা বেশ ভয়ে ছিলাম। তবে এভাবে আমার শিশু মেয়েটার ওপর পাষবিক নি‍র্যাতন করবে বুঝতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, ব‍র্তমানে আমার মেয়েটা হাসপাতালের বিছানায় ব্যাথায় কাতরাচ্ছে, আমি সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। পূণরায় এমন ঘটনার জন্ম যেন না হয়, তাই বখাটে ফয়সালকে স‍‍র্বচ্চো শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান শিক্ষা‍র্থীর মা।

সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, বাড়ির ঘটনার পর থেকে ভয়ে স্কুলে যাচ্ছিল না ওই শিক্ষা‍র্থী পরে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক গিয়ে তাকে স্কুলে নিয়ে আসেন। তবে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে গাবতলী এলাকায় ওই শিক্ষা‍র্থীকে পথরোধ করেন বখাটে ফয়সাল এবং মুখে ঘুষি ও একের পর থাপ্পর মারতে শুরু করেন, এক প‍‍র্যায়ে রাস্তায় শুয়ে পরলে মুখের ওপরে লাথি মারতে শুরু করেন ফয়সাল। পরে সহপাঠীদের ডাক চিৎকারে লোকজন আসেন এবং শিক্ষকরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত শিক্ষার্থী জানায়, ফয়সাল তাকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করতেন। শনিবার টয়লেটে গেলে তার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সোমবার বাড়ি ফেরার পথে তাকে চর-থাপ্পর, ঘুষি ও লাথি মারেন বখাটে ফয়সাল।

সরেজমিনে দেখা যায়, গুরুতর জখমের ব্যাথার পাশাপাশি কথা বলতেও বেশ কষ্ট হচ্ছিল ওই শিক্ষা‍র্থীর।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস বলেন, শনিবার পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। তখন ফয়সালের মা পুলিশে অভিযোগ করার কারণে তাদের ফল ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছিল বখাটে ফয়সাল। সোমবারের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন ওই ইউপি সদস্য।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ায় যদি শিক্ষার্থীদের অনিরাপত্তায় থাকতে হয় তবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে! আমি একজন শিক্ষক হিসেবে এমন ঘটনায় জড়িত বখাটে ফয়সালের স‍‍র্বচ্চো শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হেলাল হোসেন বলেন,‘ ফয়সাল এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত, সে (ফয়সাল) লেখাপড়াও করে না। তার বাবা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। এমনকি তাদের বাড়িতে কেউ থাকেন না তালা দেওয়া থাকে, তবে তার এমন বখাটেপনার অভিযোগ অগণিত। কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।

বেতাগী থানার ওসি মো. হারুন অর-রশীদ হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষা‍র্থীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার তিন আসামির মধ্যে দুজন ফয়সালের মা ও ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি ফয়সালকে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com