মো. নূর নবী শেখ
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মুসলিমা আক্তার (৭) নামে এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকায় একটি মাছের ঘেরের পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে স্থানীয় জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহত মুসলিমা আক্তার কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকার ইসলাম শেখের মেয়ে।
মোল্লাহাট থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে বাড়ির আশপাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল মুসলিমা। একপর্যায়ে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি মাছের ঘেরের পাড়ে বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় মুড়িয়ে মাছের ঘেরের পাড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে কারা এবং কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলেকে শনিবার রাতেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের মোল্লাহাট থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে থাকা জাহাঙ্গীরের বসতবাড়ি ও পানের বরজে বিক্ষুব্ধ কিছু গ্রামবাসী অগ্নিসংযোগ করেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। কারা এবং কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করেছে, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বাগেরহাটের নবাগত পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যার কারণ কী, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com