৫ অক্টোবর ২০২৬
preview
এআইয়ের যুগে শিক্ষকের জায়গাটা কোথায়!

মো. নূর নবী শেখ

‘স্যার, এই অঙ্কটা বুঝতে পারছি না।’

একটা সময় এই কথাটাই ছিল শ্রেণিকক্ষের খুব পরিচিত দৃশ্য। শিক্ষক হয়তো আবারও বোঝাতেন, খাতায় করে দেখাতেন, কখনো একটু বকতেন, আবার শেষে বলতেন‘চেষ্টা করো, তুমি পারবে।’

এখন সেই জায়গায় অনেকটা সময় দখল করে নিয়েছে প্রযুক্তি। মোবাইল বা কম্পিউটারে কয়েকটি শব্দ লিখলেই হাজির হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থাৎ এআই। অঙ্কের সমাধান থেকে শুরু করে রচনা লেখা, অনুবাদ কিংবা কঠিন কোনো বিষয় সহজ করে বোঝানো। সবই করছে মুহূর্তের মধ্যে।

তাহলে কি একদিন শিক্ষকের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে?

উত্তরটা সম্ভবত না।

কারণ শিক্ষক শুধু বইয়ের উত্তর দেন না, অনেক সময় একজন শিক্ষার্থীর ভেতরের মানুষটাকেও বুঝতে চেষ্টা করেন। পরীক্ষায় খারাপ করে মন খারাপ করে বসে থাকা ছাত্রটিকে সাহস দেওয়া, ভুল করলে শুধরে দেওয়া কিংবা নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা শিক্ষার্থীকে আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দেওয়া। এসব এআইয়ের পক্ষে এখনো সম্ভব নয়।

তবে এআইকে প্রতিপক্ষ ভাবারও সুযোগ নেই। বরং এটি শিক্ষকের কাজকে আরও সহজ করতে পারে। পাঠ তৈরি, উদাহরণ খোঁজা কিংবা শিক্ষার্থীর দুর্বলতা চিহ্নিত করতে প্রযুক্তি হতে পারে একজন শিক্ষকের সহকারী।

সময়ের সঙ্গে শিক্ষার ধরন বদলাবে, প্রযুক্তি আরও উন্নত হবে। কিন্তু একজন ভালো শিক্ষকের একটি কথা‘তুমি পারবে’,হয়তো কোনো প্রযুক্তিই পুরোপুরি বদলে দিতে পারবে না।

তাই শিক্ষক দিবসে প্রশ্নটা হওয়া উচিত নয়, ‘এআই কি শিক্ষকের জায়গা নেবে?’

বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত এআইয়ের যুগে একজন শিক্ষক কীভাবে আরও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবেন?

কারণ তথ্য হয়তো প্রযুক্তি দিতে পারে, কিন্তু মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষা এখনো মানুষের কাছ থেকেই আসে।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com