১৫ অক্টোবর ২০২৬
preview
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

মো. নূর নবী শেখ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা এবং সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কার মধ্যেও বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ শতাংশ কমেছে।

বিনিয়োগকারীরা একদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলার কারণে সরবরাহ ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করছেন, অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন জাহাজগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে জ্বালানি পরিবহনের ব্যয় কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে—এই দুই পরিস্থিতির ভারসাম্য বিচার করছেন তারা।

জিএমটি ০৩৩৭ অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দর ১.৬৪ ডলার বা ১.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৪২ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারের দর ৯৮ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে ৯৪.১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সেশনের অর্জিত মুনাফাকে মুছে ফেলেছে।

এর আগের সেশনে ডব্লিউটিআই-এর দর তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। হুথিরা সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালানোর পর এবং ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ লক্ষ্য করে নতুন কৌশল গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল।

সামুদ্রিক কর্মকর্তারা বুধবার জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালীর কাছে পৃথক দুটি ঘটনায় একটি কন্টেইনার জাহাজ ও একটি ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার (পণ্যবাহী জাহাজ) হামলার শিকার হয়ে ডুবে গেছে।

গত ১০ দিনে এই জলপথের আশেপাশে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় তারা হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের ফলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম কিছুটা কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন তথাকথিত 'শ্যাডো ফ্লিট' বা গোপন নৌবহরের জাহাজগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, এই জাহাজগুলো রাশিয়া, ইরান ও ভেনিজুয়েলার মতো দেশ থেকে তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করে থাকে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা বুধবার জানিয়েছেন, নতুন এই আলোচনার মূল বিষয় হলো—যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আগে নিষিদ্ধ করা জাহাজগুলোতে 'বৈধ তেল' পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) বুধবার জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন দৈনিক ৬৫ হাজার ব্যারেল বেড়ে ৮৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে আগের বছরের তুলনায় এই উৎপাদন দৈনিক ৮ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল কম।

আইইএ আরও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক ৪৪ লাখ ব্যারেল বেড়েছে, যা যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের প্রায় ৭৫ শতাংশের সমান।

ফিলিপ নোভা-এর মার্কেট ইনসাইটস বিভাগের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেভা গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক নোটে বলেন, যদিও নিকট ভবিষ্যতে শান্তি চুক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তবুও বিকল্প পথ ও বিভিন্ন লজিস্টিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তেল ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই বিকল্প ব্যবস্থাগুলো বড় ধরনের সরবরাহ সংকট এড়াতে সাহায্য করেছে। তবে এতে ব্যয় বেশি হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের প্রবাহ ভবিষ্যতে আরও বিঘ্নের ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বুধবার আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেট (জ্বালানি তেলজাত পণ্য) মজুত কমেছে, অন্যদিকে গ্যাসোলিনের মজুত বেড়েছে।

সূত্র- ইয়াহু ফিনেন্স, রয়টার্স।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com