১৭ অক্টোবর ২০২৬
preview
অস্ত্র হাতে অভিযান, যে ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক

মো. নূর নবী শেখ

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন একটি মাদক আস্তানায় পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। শনিবারের (১৭ অক্টোবর) এ অভিযানে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়।

এদিকে অভিযানের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ায় তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে ইশরাক হোসেন ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটায় নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি অস্ত্রটি সঙ্গে রেখেছিলেন। তবে এই অভিযানে তার সঙ্গে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে তাকে সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে থাকতেও দেখা যায়।

ইশরাক হোসেন জানান, রেললাইনের পাশের ফাঁকা জায়গায় ছোট ছোট অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাদক কেনাবেচা করা হচ্ছিল। এই আস্তানাটি সম্পর্কে বেশ কিছুদিন ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। মাদকসেবী ও কারবারিদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই সেখানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরগুলো ভেঙে দেন। সেখান থেকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটকের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এ সময় স্থানীয় বস্তিবাসী সেখানে ভিড় জজম করেন এবং আটক ছয়জনকে মাটিতে বসিয়ে রাখার পাশাপাশি ভিডিওতে দুজনকে মারধর করতেও দেখা যায়।

অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আমরা সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, সে যে দলেরই হোক, আর যদি আমার দলেরও হয়, তবে তার শাস্তি আরও বেশি হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তার আসনটিকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজেই ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন করেন। পরে থানা থেকে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

ওসি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো আসলেই হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com