_copy7.webp)

আজ ১৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনডিআরআর) নির্ধারিত এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘রেজিলিয়েন্স স্টার্টস অ্যাট হোম’ অর্থ্যাৎ ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগসহনশীল দেশ গড়ি’।
এ বছরের দিবসের মূল লক্ষ্য হলো দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে বাড়ি ও আবাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিত করতে সুশাসন ও বিনিয়োগের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা, এ খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা জোরদার করা এবং চরম ঝুঁকিতে থাকা পরিবার ও জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দেওয়া।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত দিবসের মূল অনুষ্ঠান আজ সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলমের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের।
ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, বজ্রপাত ও তাপপ্রবাহ নিয়মিতভাবে দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রভাবিত করে। উপকূলীয় অঞ্চল, হাওরাঞ্চল, নদীতীরবর্তী এলাকা এবং পাহাড়ি জনপদে দুর্যোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সময়ে দুর্যোগজনিত মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় ছিল এ ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ।
উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে থাকেন। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং নদীর পানি বৃদ্ধি উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতে ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। এসব দুর্যোগে ঘরবাড়ি, ফসল, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। ব্যাহত হয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
দুর্যোগ মোকাবিলায় গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম এবং উদ্ধার ও ত্রাণব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রগতি অর্জন করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সতর্ক করা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ প্রাণহানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০৩০ সময়কালের জন্য বহুমাত্রিক আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদারে একটি জাতীয় রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। এর আওতায় আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাস উন্নত করা, দ্রুত সতর্কবার্তা মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং দুর্যোগের আগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এখনো টেকসই ঘরবাড়ি ও পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের অভাব রয়েছে। সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা এবং গবাদিপশু ও সম্পদ ফেলে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে নিরাপদ স্থানে যেতে দেরি করেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো দুর্যোগে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে শুধু তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিকল্পিত বসতি নির্মাণ, ভবন নির্মাণবিধির কার্যকর প্রয়োগ, নদী ও বাঁধ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষির সম্প্রসারণ জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত মহড়া, সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ ও স্বেচ্ছাসেবক দলকে শক্তিশালী করতে হবে।
পরিবার পর্যায়েও দুর্যোগ প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি যোগাযোগের নম্বর, প্রয়োজনীয় ওষুধ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, টর্চলাইট ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।
দুর্যোগ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও আগাম প্রস্তুতি, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, কার্যকর সতর্কবার্তা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যও সেই বার্তা দেয়—দুর্যোগসহনশীল দেশ গড়ে তুলতে হলে প্রথমে নিরাপদ ও ঝুঁকিসহিষ্ণু পরিবার এবং আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন


%20(1).webp&w=2048&q=75)






সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।